প্রচ্ছদ

ঢাকায় অরুন্ধতী রায়ের অনুষ্ঠান বাতিল করল পুলিশ

০৫ মার্চ ২০১৯, ০৯:৩৪

সোনালী সিলেট
ঢাকায় অরুন্ধতী রায়ের অনুষ্ঠান বাতিল করল পুলিশ

সোনালী সিলেট ডেস্ক ::: বুকারজয়ী ভারতীয় লেখক, অধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়কে নিয়ে ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে গেছে। বক্তৃতা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিয়েও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে পুলিশ।

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ আলোকচিত্র উৎসব ছবিমেলায় অংশ নিতে ভারতের প্রখ্যাত লেখক অরুন্ধতী রায় এসেছেন বাংলাদেশে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কমপ্লেক্স মিলনায়তনে অতিথিদের সঙ্গে নিজের লেখকজীবন নিয়ে আলোচনা বলার কথা ছিল তার।

সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তেজগাঁও থানা-পুলিশ বক্তৃতা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে ছবিমেলার আয়োজকদের চিঠি দিয়েছে।

তবে কী কারণে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি বাতিল করা হলো, এর কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি পুলিশ।

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কমপ্লেক্স মিলনায়তন কর্তৃপক্ষও চিঠি দিয়ে আয়োজকদের জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, তারা আর মিলনায়তনটি ব্যবহার করতে দিতে পারছে না।

এতে যে ৯৭৫ জন অতিথি আজ অরুন্ধতী রায়ের কথা শোনার জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন, তারা আর সেই সুযোগ পাচ্ছেন না।

দুপুর ১টা পর্যন্ত এ ব্যাপারে অরুন্ধতী রায়ের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছবিমেলার সমন্বয়ক এ এস এম রেজাউর রহমান ১৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের কাছে অরুন্ধতী রায়ের স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চেয়ে চিঠি লেখেন।

চিঠিতে লেখা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ আলোকচিত্র উৎসব ছবিমেলার দশম পর্ব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা ফটোগ্রাফার, সাহিত্যিক ও লেখকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এর অংশ হিসেবে ভারতের বিখ্যাত সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও সুপরিচিত লেখক অরুন্ধতী রায় বাংলাদেশে আসছেন। অরুন্ধতী রায়ের স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠান ৫ মার্চ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৬টায় খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

২৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার শর্ত-সাপেক্ষে নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থায় অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেন। শর্তগুলো হলো—স্থান ব্যবহারের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকতে হবে। অনুষ্ঠানস্থলে আসা লোকজন যানচলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবেন না। নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। আর্চওয়ে স্থাপন ও মেটাল ডিটক্টের দিয়ে আগতদের শরীর তল্লাশি করতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রবিরোধী, উসকানিমূলক বা প্ররোচনামূলক বক্তব্য প্রদান করা যাবে না। স্বল্প আওয়াজ সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। মাদক বা নেশাজাতীয় সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়-সেবন করা যাবে না। অনুষ্ঠান এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। শর্ত অমান্য করলে আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনুষ্ঠানের বিধিবিধান ও নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়া কর্তৃপক্ষ এই অনুমতির আদেশ বাতিল করতে পারবে।

এক দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্স মিলনায়তনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দেন ছবিমেলার সমন্বয়ক। এতে তিনি লেখেন, অরুন্ধতী রায় তার বক্তৃতায় নিজের লেখকজীবন সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা ও নানা বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।

মিলনায়তনের ভাড়া হিসেবে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৫০ টাকা দেন। অনুষ্ঠানের এক দিন আগে ৪ মার্চ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে আয়োজকদের (ছবিমেলা) জানায়, মিলনায়তনের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।

অরুন্ধতী রায় ঢাকা এসেছেন ছবিমেলার আমন্ত্রণে। আলোকচিত্রী শহিদুল আলম অরুন্ধতীর দিল্লির বাড়িতে গিয়ে তাকে ঢাকা আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছিলেন। আমন্ত্রণ জানানোর অল্প কদিন পরই শহিদুল গ্রেপ্তার হন। শহিদুলের মুক্তি চেয়ে অরুন্ধতী একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com