প্রচ্ছদ

 আমি শত চেষ্টা করেও রিফাতকে রক্ষা করতে পারিনি : আয়েশা (ভিডিওসহ)

২৭ জুন ২০১৯, ১৭:১৯

সোনালী সিলেট

সোনালী সিলেট ডেস্ক ::: : বরগুনায় নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার সামনেই সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি শত চেষ্টা করেও তাঁকে রক্ষা করতে পারিনি। হামলার সময় কোনো লোক এগিয়ে আসেনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে বরগুনা পুলিশ লাইনের কাছে বাবার বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।

আয়েশার দাবি করেন, নয়ন, রিশান ফরাজী ও রিফাত ফরাজী এই হামলা চালিয়েছে। নয়ন বিভিন্ন সময় আমাকে বিরক্ত করত, এসব ঘটনা পরিবারকে না জানাতে আমাকে হুমকি দিত।

বুধবার বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে দিনদুপুরে স্ত্রীর আয়েশা সিদ্দিকার সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। রাতে রিফাতের বাবা ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় আজ সকাল ৯ টার দিকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তির নাম চন্দন। তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশাল বিভাগের পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বরগুনা কলেজের অধ্যক্ষর সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ সময় বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিহত রিফাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা মা মোসা. ডেইজি আক্তার। থেকে থেকে আহাজারি করছেন তিনি।

রিফাতের প্রতিবেশী হালিম বলেন, এলাকায় ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন রিফাত। তাঁকে যেভাবে নৃশংস ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা দুঃখজনক। আমরা এর বিচার চাই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বরগুনা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম রনি বলেন, আমি বাসা থেকে শহরে যাওয়ার পথে দেখি, বরগুনা সরকারি কলেজের গেট থেকে রিফাতকে টেনে হিঁচড়ে বের করে কোপানো হচ্ছে। আমিও হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করি।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, রিফাত শরীফ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তাঁরা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যান।

পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়। ওই হামলার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com